ডাঃ শফিকুর রহমান এমপি
(Beta)
  • প্রচ্ছদ
  • পরিচিতি
  • লেখালেখি
  • সংবাদ
    • বিজ্ঞপ্তি
    • বিবৃতি
    • বাণী
    • বক্তব্য
  • তথ্যকোষ
    • বই
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • ছবি গ্যালারী
    • ভিডিও গ্যালারী
    • সাক্ষাৎকার
    • ডকুমেন্টারি
  • কার্যক্রম
    • আইন ও মানবাধিকার
    • আন্তর্জাতিক
    • তথ্য ও গবেষণা
    • দাওয়াহ কার্যক্রম
    • রাজনৈতিক
    • শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
    • সমাজকল্যাণ
    • স্বাস্থ্যসেবা
  • যোগাযোগ
No Result
View All Result
  • English
ডাঃ শফিকুর রহমান এমপি
(Beta)
  • প্রচ্ছদ
  • পরিচিতি
  • লেখালেখি
  • সংবাদ
    • বিজ্ঞপ্তি
    • বিবৃতি
    • বাণী
    • বক্তব্য
  • তথ্যকোষ
    • বই
    • বিশেষ প্রতিবেদন
    • ছবি গ্যালারী
    • ভিডিও গ্যালারী
    • সাক্ষাৎকার
    • ডকুমেন্টারি
  • কার্যক্রম
    • আইন ও মানবাধিকার
    • আন্তর্জাতিক
    • তথ্য ও গবেষণা
    • দাওয়াহ কার্যক্রম
    • রাজনৈতিক
    • শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
    • সমাজকল্যাণ
    • স্বাস্থ্যসেবা
  • যোগাযোগ
ডাঃ শফিকুর রহমান এমপি
No Result
View All Result

আলেমদের সমাজ পরিবর্তনের প্রধান রূপকার হওয়ার আহ্বান

-ডা. শফিকুর রহমান এমপি

আলেমদের সমাজ পরিবর্তনের প্রধান রূপকার হওয়ার আহ্বান

উলামায়ে কেরামকে সমাজ পরিবর্তনের প্রধান রূপকার হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, উলামায়ে কেরাম শুধু মসজিদে ইমামতি, ওয়াজ-নসিহত কিংবা খুতবার মধ্যে নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জাতির ক্রান্তিলগ্নে তাদের সঠিক পথনির্দেশনা, নেতৃত্ব ও আদর্শিক ভূমিকা পালন করতে হবে।

শনিবার ৮ আগস্ট সকাল ৯টায় রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় উলামা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘মতবিরোধ নয়, ঐক্যেই গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। সম্মেলনে প্রস্তাবনা পেশ ও সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সেক্রেটারি ও তামিরুল মিল্লা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি ও ড. এএইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

আমীরে জামায়াত বলেন, উলামায়ে কেরামের ইলম চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে কোরআন ও সুন্নাহ। আল্লাহর বিধান মানার পূর্ণাঙ্গ মডেল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তার আনুগত্যের বাস্তব মডেল সাহাবায়ে কেরাম। মুসলিম উম্মাহ এই আদর্শ অনুসরণ করলে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

উলামায়ে কেরামের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সত্য ও ন্যায়ের কথা বলতে হবে; তবে কাউকে অপমান, ছোট করা বা কটূক্তি করা যাবে না। দ্বীনের দাওয়াত এমনভাবে দিতে হবে, যাতে মানুষের হৃদয়ে তা পৌঁছে যায়। তিনি কোরআনের নির্দেশনার আলোকে প্রজ্ঞা, উত্তম উপদেশ ও সুন্দর ভাষায় মানুষকে আহ্বান জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উলামায়ে কেরামের চিন্তা ও মত সবসময় এক হবে না। অতীতেও মতপার্থক্য ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে মতের ভিন্নতার কারণে কাউকে অসম্মান করা যাবে না। কেউ সমালোচনা বা কটূক্তি করলেও পাল্টা কটূক্তি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের জন্য দোয়া করতে হবে এবং তার বক্তব্যে কোনো কল্যাণকর বিষয় থাকলে তা গ্রহণ করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে উত্তেজনামূলক বক্তব্য বা ‘আক্রমণাত্মক’ মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। কেউ আমাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেও আমরা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ব না অর্থাৎ উসকানির জবাব উসকানি দিয়ে না দিয়ে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে আলিয়া ও কওমি দুই ধারার শিক্ষারই প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, আলিয়া শিক্ষায় শিক্ষিতরা সমাজের প্রচলিত ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন, আর কওমি শিক্ষায় শিক্ষিতরা দ্বীনের মৌলিকত্ব ধরে রেখে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই কোনো একটি ধারাকে বাদ দিয়ে নয়, বরং উভয় ধারার আলেম ও শিক্ষিত মানুষকে সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে জাতি জ্ঞান ও গবেষণায় যত বেশি এগিয়ে যায়, সেই জাতি বিশ্বকে তত বেশি নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে। তিনি উলামায়ে কেরামসহ সবাইকে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ইসলামী জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণাকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও বিভিন্ন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের আগে তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান যুগেও যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য, গবেষণা, দক্ষতা ও প্রস্তুতির বিকল্প নেই।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না; শান্তি চাই। তবে কেউ আক্রমণ চাপিয়ে দিলে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। ইসলামের যুদ্ধনীতির বড় অংশই আত্মরক্ষামূলক ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর বিজয় নয়, আমরা মানবতার বিজয় চাই। মানুষের কল্যাণ ও সুরক্ষাই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

আমীরে জামায়াত বলেন, আল্লাহর বিধান ও ন্যায়নীতির আলোকে মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। দেশের মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আপনাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। এই দায়িত্ব আরও নিবিড় ও সুন্দরভাবে পালন করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সত্য ও ন্যায়ের কথা বলতে গেলে বাধা আসতে পারে। কিন্তু সেই কারণে হকের কথা বলা থেকে বিরত হওয়া যাবে না। একই সঙ্গে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না।

বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষকে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান, ঐক্য, নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা ও আত্মসংযমের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। মানুষ নিজের নফস বা প্রবৃত্তির কাছে পরাজিত না হয়ে যদি আত্মসংযম ও ন্যায়ের পথে বিজয়ী হতে পারে, তাহলেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

আমীরে জামায়াত বলেন, ইসলামের কিছু বিষয় পালন করা সহজ এবং সেগুলো নিয়ে সমাজে আপত্তিও তুলনামূলক কম। কিন্তু বদর ও ওহুদের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে জুলুম ও বাতিলের বিরুদ্ধে সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো কঠিন। মক্কা জীবনে মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তারা প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি, বরং ধৈর্য ও ত্যাগের মাধ্যমে নিজেদের ঈমান ও চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করেছেন।

মক্কা বিজয়ের ঘটনা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিনের নির্যাতন-নিপীড়নের পরও মহানবী (সা.) মক্কাবাসীর জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। তবে নিরীহ মানুষ হত্যাসহ গুরুতর অপরাধে জড়িত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে নিরাপত্তা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে ব্যাপকভাবে কঠোর শাস্তি কার্যকর হবে ইসলামের বিরুদ্ধে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে। অথচ ইসলামের ইতিহাসে প্রতিশোধের চেয়ে ক্ষমার দৃষ্টান্তই বেশি। মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের শাসনামলে কতজনের ওপর হদ কার্যকর হয়েছিল, ইতিহাস থেকে তার তথ্য তুলে ধরতে হবে। মানুষ শুধু আইনের ভয়ে অপরাধ থেকে বিরত থাকত না; বরং আল্লাহর ভয় ও পরকালের জবাবদিহিতার বিশ্বাস তাদের নিয়ন্ত্রণ করত। মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি করা গেলে সমাজে অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।

উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইমাম যেমন নামাজে নেতৃত্ব দেন এবং মুসল্লিরা তাকে অনুসরণ করেন, তেমনি সমাজের মানুষও উলামায়ে কেরামের জীবন ও আমল অনুসরণ করবে। এজন্য উলামায়ে কেরামের সতর্কতার মাত্রা সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমান সমাজে মানুষের সম্মান, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে উলামায়ে কেরামকে সোচ্চার হতে হবে। সত্যকে সত্য এবং অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে।

বিশেষ অতিথি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে বিভিন্ন পেশা, শ্রেণি ও মর্যাদার মানুষ থাকলেও জনগণের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ধারাবাহিক ও সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে উলামায়ে কেরামের। কোনো বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, সমাজ পরিবর্তন কিংবা একটি সভ্যতা ও পরিবারের পরিবর্তনে সবচেয়ে নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারেন উলামায়ে কেরাম। সমাজে বিদ্যমান ইসলামের বিভিন্ন বিধান ও ফরজ দায়িত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণার বেড়াজাল ছিন্ন করে ইসলামের সঠিক শিক্ষা মানুষের সামনে তুলে ধরতে উলামায়ে কেরামকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর উম্মতের জন্য রেখে যাওয়া আল্লাহর কিতাব ও তাঁর সুন্নাহ মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে অনুসরণ করতে হবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যে ইসলামী আদর্শ ও নেতৃত্বের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, বর্তমান মুসলিম সমাজে তার কতটা প্রতিফলন রয়েছে এবং উলামায়ে কেরাম সেই আমানত রক্ষায় কতটুকু ভূমিকা পালন করতে পেরেছেন। এ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; প্রত্যেককে আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বর্তমানে একটি শ্রেণি পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে নানা ধরনের বিতর্ক ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের কথাবার্তার জবাব দিতে গিয়ে আমাদের মূল কাজ থেকে বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়। উলামায়ে কেরামের উচিত এসব বিষয় আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে নিজেদের দাওয়াত ও সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাওয়া।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মুসলমানরা যখন কোরআনকে ধারণ করেছে, তখন তারা পৃথিবীতে নেতৃত্ব দিয়েছে। আর যখন কোরআনের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেছে, তখন তারা দুর্বল ও পরাধীন হয়েছে। তাই মুসলমানদের উত্থান ও পতনের সঙ্গে কোরআনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, উলামায়ে কেরামের মর্যাদা অনেক উঁচু এবং সমাজে তাদের প্রভাব ও দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের কাছে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। মানুষের মধ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ন্যায়, ইনসাফ ও নৈতিকতার চেতনা জাগ্রত করতে হবে। দেশের মানুষ পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে। জনগণের একটি বড় অংশ ন্যায়, ইনসাফ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়।

আবদুল হালিম আরও বলেন, মতপার্থক্যের কারণে পরস্পরকে অপমান, আক্রমণ বা বিভক্ত করা উচিত নয়। কোনো আলেমের বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে মতের অমিল থাকলেও তাকে সম্মান করতে হবে। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তির মাধ্যমে দ্বীনের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কেউ কঠোর ভাষায় সমালোচনা করলেও তার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। প্রতিপক্ষের কটূক্তির জবাব কটূক্তি দিয়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব হবে না। ধৈর্য, সৌজন্য ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে।

জাতীয় উলামা প্রতিনিধি সম্মেলনে সাতটি প্রস্তাব পেশ করা হয়। প্রস্তাবগুলো হলো ১. মাদ্রাসা ও কলেজে ইসলামী শিক্ষা সংকোচন বন্ধ করতে হবে। ২. মাদ্রাসার নারী শিক্ষার্থীদের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে। ৩. উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে উলামা-মাশায়েখদের হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। ৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। ৫. ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণ করতে হবে। ৬. ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সার্ভিস রুল ও পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ৭. ফিলিস্তিনসহ সকল দেশের মুসলিম হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আমিন এমপি, মুফাসসিরে কোরআন মাওলানা তারিক মুনাওয়ার, কেন্দ্রীয় ওলামা বিভাগীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ, মুফতি ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার, লক্ষ্মীপুরের মাওলানা ইসমাইল হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারফ হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ড. মীম আতিকুল্লাহ, উত্তরের সাবেক সভাপতি ড. হাবিবুর রহমান ও তানজিমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ হাবীবুল্লাহ মোহাম্মদ ইকবাল।

আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দিন, মাওলানা ফখরুদ্দিন আহমেদ, মাওলানা নাসির উদ্দিন হেলালী, মাওলানা বদরুল আলম, মাওলানা হাবিবুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা আব্দুল মোমিন নাসেরী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আজহারী, মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারী ও মুফতি নূরুজ্জামান নুমানী।

উপস্থিত ছিলেন মো. কামাল হোসেন এমপি, ইসলামিক কানুন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, মুফতি আলী হাসান উসামা, মাওলানা রুহুল আমিন, মাহবুব তাহের জাবেরি আল মাদানী, মোল্লা নাজিম উদ্দিনসহ সারাদেশ থেকে আগত সহস্রাধিক উলামা প্রতিনিধি।

Next Post
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দায়িত্বশীলদের সতর্ক ও সজাগ ভূমিকা পালন করতে হবে, উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দায়িত্বশীলদের সতর্ক ও সজাগ ভূমিকা পালন করতে হবে, উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে

Discussion about this post

সাম্প্রতিক

  • ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক বিজয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, কোচ, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
  • যতদিন চলার শক্তি থাকবে জাতির প্রয়োজনে মাঠে থাকব : গাইবান্ধায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি
  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম
  • চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দায়িত্বশীলদের সতর্ক ও সজাগ ভূমিকা পালন করতে হবে, উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে
  • আলেমদের সমাজ পরিবর্তনের প্রধান রূপকার হওয়ার আহ্বান
  • বিএনপি সংবিধানের ভঙ্গুর সংশোধনী এনে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে
  • কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • শহীদ নাইমা সুলতানার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা
  • জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে
  • দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে
  • ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান
  • গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে একচুলও সরবো না
  • শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা বন্ধে সরকার ও বিএনপির ভূমিকা দেখতে চায় জনগণ: ডা. শফিকুর রহমান
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা
  • জুলাই ভুলিয়ে দেওয়ার সব অপচেষ্টা তছনছ করে দেওয়া হবে

যোগাযোগঃ

জাতীয় সংসদ ভবন অফিসঃ
রুম – ৩২২, সাউথ-ইষ্ট ব্লক, তৃতীয় তলা, জাতীয় সংসদ ভবন, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭
ইমেইলঃ drshafiqurrahman58@gmail.com

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অফিসঃ
৫০৫, এলিফ্যান্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোনঃ +৮৮ ০২ ২২২২২৫১৪২
ইমেইলঃ ameer@jamaat-e-islami.org

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
  • লাইব্রেরী
  • গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্কসমূহ
  • যোগাযোগ

© ২০১৮-২০২৬ সর্বস্বত্ত্ব ডাঃ শফিকুর রহমান কর্তৃক সংরক্ষিত

No Result
View All Result

© ২০১৮-২০২৬ সর্বস্বত্ত্ব ডাঃ শফিকুর রহমান কর্তৃক সংরক্ষিত