বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ইসলামী ছাত্রীসংস্থার দায়িত্বশীলা শিক্ষা শিবিরে বলেছেন, ইসলামী ছাত্রীসংস্থার সর্বস্তরের দায়িত্বশীলাদের নিজেদের কাজ বুঝে নিয়ে দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। সব ধরনের পরিস্থিতিতে আল্লাহর উপরই ভরসা করতে হবে। আমরা যত বেশি তাওয়াক্কুল করব, তত বেশি আল্লাহর সাহায্য আসবে। আল্লাহর উপর ভরসা না করে পারিপার্শ্বিক অন্য কিছুর উপর নির্ভর করা চিন্তার ত্রুটি।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ঢাকা মহানগরী অঞ্চলের সদস্যসহ থানা দায়িত্বশীলাদের এক শিক্ষা শিবির আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়ার সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল উম্মে আরওয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত উপরোক্ত কথা বলেন।
শিক্ষাশিবিরে বিষয় ভিত্তিক বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মোঃ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি আয়শা সিদ্দিকা পারভিন, জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগীয় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ইরানি আক্তার।
আমীরে জামায়াত ছাত্রীদের নিম্নোক্ত বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
১। দাওয়াত ইলাল্লাহঃ
মুসলিম-অমুসলিম সবার নিকট দাওয়াত পৌঁছাতে হবে। ইসলামী সমাজব্যবস্থার সুফল সবার সামনে বলিষ্ঠ যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। অনুকূল ও প্রতিকূল সর্বাবস্থায় দাওয়াতি কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।
২। মৌখিক ও আমলি- এ দুইটি পদ্ধতিতে দাওয়াত দানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আমলি দাওয়াত সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী হয়। রাসূল সা. এর জীবন তার সর্বোত্তম নমুনা। এক্ষেত্রে আমাদের আচরণ সুন্দর করতে হবে। মেজাজের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। যারা ইসলামের ব্যাপারে জানতে চাইবে, তাদের নিকট কুরআন সুন্নাহর আলোকে দরদী ভাষায় যুক্তি নির্ভর দাওয়াত পেশ করতে হবে।
৩। সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ছাত্রীদের পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যাসহ সম্ভাব্য সকল সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে।
৪। রাষ্ট্রের অসৎ নেতৃত্ব পরিবর্তনের ওপর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তন আনয়নে ছাত্রীদের বিশেষ নজর দিতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের শিক্ষাজীবনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।