মানুষের অধিকার, ন্যায়-ইনসাফ, দ্বীন, কালিমা, সততা, সত্য এবং এলাকার মানুষের স্বার্থের পক্ষে সব সময় আপসহীন থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
তিনি শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে রাজধানীর মিরপুরের একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের কাফরুল জোন আয়োজিত বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক শহীদুল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. আব্দুস সামাদ। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন ও উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল করিম প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত নির্বাচনে জাতি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করেছিল। সে লক্ষ্যেই জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণরায় দিয়েছিল। দেশে ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি আঁতাত করে জনগণের সেই রায় ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে আমরা হতাশ হইনি। এর মধ্যেও আল্লাহ অবশ্যই আমাদের জন্য কল্যাণ রেখেছেন। বিগত নির্বাচনের ভুল ও দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার সুযোগ আমরা পেয়েছি। এসব বিষয়ে কাজ করতে পারলে আগামী দিনে আমাদের বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে আরও শাণিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম অর্জন। কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়ন না করে গণরায়ের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে। তবে এটি বাস্তবায়িত হবে, ইনশাআল্লাহ। হয়তো আপনারা ভাবছেন, সময় তো শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব। তাঁর সময় এখনো শেষ হয়নি। এ বিষয়ে আমরা কোনো আপস করব না, ছেড়ে কথাও বলব না। মূলত, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো আপস করা হলে তা জাতি ও শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি করার শামিল হবে। এতে শহীদদের আত্মা কষ্ট পাবে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সবাইকে আপসহীন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সংসদে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, মহলবিশেষের ইচ্ছামতো না চললে ‘এ করা হবে, সে করা হবে’। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা উচিত, আমরা এসব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছি। তাই এসবকে আমরা কোনোভাবেই ভয় করি না।
তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, এলাকায় অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে কিছু অসাধু মানুষের চক্রান্তও। প্রধানমন্ত্রী এ এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ জন্য একজন প্রতিমন্ত্রীকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার সমস্যাগুলোর সমাধান হবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি এলাকার উন্নয়নে সবাইকে সব সময় সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
আমীরে জামায়াত বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। আমরা সব পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি সরকার গঠনের নির্বাচন নয়, বরং উন্নয়নের নির্বাচন। আর উন্নয়ন যেখানে থাকে, সেখানে স্বার্থান্বেষী মহলেরও আগ্রহ থাকে।
তিনি বলেন, আমরা কাউকে সেই ‘মধু’ ভোগ করতে দেব না; বরং জনগণের অধিকার জনগণের কাছেই পৌঁছে দেব। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কোনো প্রাপ্যতা থাকলেও তা গ্রহণ করবেন না। আত্মীয়-স্বজনকেও কোনো বিশেষ সুবিধা দেবেন না। কারও প্রকৃত প্রয়োজন থাকলে আমরা নিজেরাই তা সমাধানের চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উন্নয়নের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা এমন একটি ডিএনসিসি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং সব সমস্যার সমাধান হবে ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে। তিনি সেই স্বপ্নের নগরী গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


Discussion about this post