আজ ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ (শুক্রবার) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরী শাখার উদ্যোগে টঙ্গীস্থ শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
গাজীপুর মহানগরী জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা উত্তর অঞ্চল পরিচালক উপাধ্যক্ষ আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, সাবেক জেলা আমীর আবুল হাশেম খান এবং গাজীপুর জেলা আমীর ড. জাহাঙ্গীর আলম ও টাঙ্গাইল জেলা আমীর জনাব আহসান হাবিব মাসুদ।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগরী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আমেনা বেগম, মহানগরীর নায়েবে আমীর জনাব খায়রুল হাসান ও হোসেন আলী, মহানগরী সেক্রেটারি আ. স. ম. ফারুক হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি আফজাল হোসেন ও আজহারুল ইসলাম মোল্লা, জামায়াতে ইসলামী মনোনিত গাজীপুর সিটি মেয়র পদপ্রার্থী জনাব ড. হাফিজুর রহমান, বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ, মহানগরী কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত নির্বাচনের আগে একটি দল প্রচার করেছিল, নির্বাচন হয়ে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অথচ বর্তমানে সমস্যাগুলো দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বিচার বিভাগ ও শিক্ষা খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। হাসিনা সরকারের দেখানো পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। এ সরকার গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। এভাবে চলতে থাকলে তাদের পরিণতিও হাসিনা সরকারের মতো হবে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল, দেশে শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে বৈষম্যের নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনে বিগত সরকারের মতো দলীয়করণ চলছে। লুটতরাজ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভাগ বসানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, আমাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং রাসুল (সা.)-এর আদর্শ উপেক্ষা করার কারণে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের মানুষ ও মুসলিম বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত হয়েছে। এর বিপরীতে জনগণ মনে করে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীই তাদের একমাত্র নিরাপত্তার স্থল।
রুকনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের বাণী বুকে ধারণ করে ইসলামী চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং নিজেকে ও পরিবারকে ইসলামী আদর্শে গড়ে তুলতে হবে। সমাজের মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও উত্তম আচরণ করতে হবে এবং প্রত্যেক মানুষকে সম্মান করতে হবে। শুধু তরবারি দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি; রাসুল (সা.)-এর উত্তম আচরণে আকৃষ্ট হয়েই মানুষ ইসলামের প্রতি অনুরক্ত হয়েছে। বিদায় হজের সময় ১ লাখ ২০ হাজার অমুসলিম মুসলিম হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর স্বাদ যেকোনো সময় গ্রহণ করতে হবে। তাই উত্তম আমলের মধ্য দিয়ে জীবনের শেষ পরিণতি সুন্দর করতে হবে। কোনো ব্যক্তি সুদের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না; সর্বাবস্থায় সুদ হারাম। রাসুল (সা.) তাঁর আমল ও আদর্শের শক্তিতে মদিনাসহ সারা দুনিয়ায় ইসলামের বিজয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর দাসত্ব করার জন্যই মানুষের সৃষ্টি হয়েছে।
গাজীপুরের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে শিল্পমালিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বসবাস করেন। তাই আগামী স্থানীয় নির্বাচনে জান-মাল দিয়ে বিজয় অর্জন করতে হবে। দেশ ও জাতি জামায়াতের দিকে তাকিয়ে আছে। জামায়াতে ইসলামীকেই দেশ ও জাতিকে উদ্ধার করতে হবে। বাধা এলে লড়াই হবে। আল-কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
সম্মেলনের শুরুতে দারসুল কুরআন পেশ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। এ সময় দেশীয় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীবৃন্দ ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।


Discussion about this post