বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, আমাদের সাত দফা দাবি জনতার। জনতার পাশে থাকতে আমরা রাস্তায় নেমেছি।
তিনি বলেন, কথা ছিল গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে রাষ্ট্র সংস্কার করা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের একটি রায় ছিনতাই করা হয়েছে। আর আর গণভোটে জনগণের ৭০ ভাগ হ্যাঁতে রায় দিয়েছে। আমরা বৃহত্তর স্বার্থে মেনে নিয়েছি। কিন্তু বিএনপি গদিতে বসে গণভোটকে অস্বীকার করছে, অপমান করছে, অস্বীকার করছে- জনগণ এর প্রতিশোধ নেবে।
আজ ৩১ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় যশোরের মুড়লীর মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার অনেককে বিভিন্ন কার্ড দিচ্ছে জনগণের পকেট কেটে। কিন্তু সবাই পাচ্ছে না। তারা জাতির সাথে তামাশা করছে। গণভোটের গণরায় অস্বীকার করার মাশুল সরকারকে দিতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে মাঝে কোনো যদি, কিন্তু নেই- ফুলস্টপ। এক দফার ডাকের প্রয়োজন হলে আমরা দেবো। ভালোয় ভালোয় মেনে নিন। গণভোটের রায় মেনে নিন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের রাস্তায় যারা হাঁটবে তাদের খালে বিলে দৌঁড়াতে হবে, দেশ থেকে পালাতে হবে। মজলুমরা জালিম হয়ে উঠুক আমরা তা চাই না। মানুষ রাস্তায় নেমেছে, দাবি আদায় করে ছাড়বে। জনগণকে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমীর গোলাম রসুল এমপির সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। রাষ্ট্র মেরামতের জন্য জনগণ গণভোটে হ্যাঁতে ভোট দিয়েছে। সরকার গঠনে বিএনপি ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১১ দলের ফলাফল ছিনতাই করে বাংলাদেশকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গেছে। আমরা দেশ ও জাতির স্বার্থে ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার গণভোটের ৭০ ভাগ রায়ের সাথে গাদ্দারি করছে। তবে জনগণ রায় বাস্তবায়ন করে ছাড়বে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে আমরা একমত হয়েছিলাম যে ক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদ মেনে ও গণভোটের গণরায় অনুযায়ী রাষ্ট্র মেরামত করব। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে তা ভুলে গেছে। বিএনপি জনগণের সথে গাদ্দারি করলেও ১১ দল করবে না।
প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, পরিণাম ভালো চাইলে জনগণের রায় মেনে নিন। একই সঙ্গে ১১ দলের এক দফার ডাক আসলে জনগণকে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলের লংমার্চে হাজার হাজার নারী পুরুষ সংহতি সরকারকে বার্তা দিচ্ছে তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দিয়ে এখন তা অস্বীকার করায় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের মন্ত্রিত্ব অবৈধ হয়ে গেছে। দ্বিচারিতা করে বিএনপি জাতির সাথে গাদ্দারি করছে বিশ্বাস ভঙ্গ করছে।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ফ্যাসিস্ট আমলে করেছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা আর এখন করছে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা।
যশোরের মুড়লীর মোড়ের পথসভা শেষে লংমার্চের বহর ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওনা হয়। ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালের পথসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও লংমার্চ রুটের বিভিন্ন স্থানের গণজমায়েত স্থলে অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখবেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ। রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সংগঠনের ১১ দলের নেতাকর্মীদের দেয়া অভিবাদন গ্রহণ করবে লংমার্চের বহর।
এর আগে আজ সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে লংমার্চের বহর শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা; ফরিদপুরের ভাঙা; গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি; বাগেরহাটের ফকিরের হাটের নওয়াপাড়া মোড়; ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়; খুলনা মহানগরীর বাবরি চত্বর ও ফুলতলা বাস্ট্যান্ডের পথসভায় যোগ দেয় লংমার্চের বহর।
উল্লেখ্য, দাবি আদায়ে ১১ দল গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম লংমার্চ করে চট্টগ্রাম অভিমুখে, দ্বিতীয়টি ১৯ সেপ্টেম্বর করে রংপুর অভিমুখে।


Discussion about this post